বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম ২০২৪ সালে আগের বছরের তুলনায় কমেছে। শুক্রবার প্রকাশিত জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিভাগের (এফএও) মাসভিত্তিক মূল্যসূচক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর রয়টার্স, ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডটকম।
এফএও জানায়, ২০২৪ সালে খাদ্য মূল্যসূচক ছিল গড়ে ১২২ পয়েন্ট, যা ২০২৩ সালের গড়ের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ কম। এ সময় খাদ্যশস্য ও চিনির মূল্যে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। তবে সদ্য শেষ হওয়া বছরে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ছিল ভোজ্যতেল, দুগ্ধজাত পণ্য ও মাংসের দাম।
এফএওর মূল্যসূচক মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য হওয়া খাদ্যপণ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিসেম্বরে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের গড় মূল্যসূচক ছিল ১২৭ পয়েন্ট, যা নভেম্বরের তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ কম। কিন্তু এ মূল্যসূচক গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
প্রতিবেদনে এফএও জানায়, ডিসেম্বরে খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক নভেম্বরের তুলনায় স্থিতিশীল ছিল। তবে গত বছরের তুলনায় তা কমেছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। এ সময় ভুট্টার দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও গমের দাম ছিল নিম্নমুখী, যা স্থিতিশীল থাকার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে ২০২৪ সালে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের গড় মূল্যসূচক ছিল ১১৩ দশমিক ৫ পয়েন্ট, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ কম।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, ডিসেম্বরে বৈশ্বিক গমের চাহিদা কমে গিয়েছিল। এছাড়া এ সময় আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে মৌসুমি সরবরাহ বেড়েছে। এ কারণে এ সময় গমের রফতানি মূল্য স্থিতিশীল ছিল।
অন্যদিকে ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী ভুট্টার দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এতে ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরবরাহ সংকট ও ইউক্রেনের ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা। অন্যান্য শস্যের মধ্যে ডিসেম্বরে যবের মূল্য বেড়েছে, তবে এ সময় কমেছে সরগমের দাম।
জাতিসংঘের সংস্থাটির দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে সব ধরনের চালের মূল্যসূচক ২০২৩ সালের তুলনায় দশমিক ৮ শতাংশ বেশি ছিল। ডিসেম্বরে ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক নভেম্বরের তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। তবে আগের বছরের তুলনায় ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি ছিল। এছাড়া সরবরাহ সংকটে ২০২৪ সালে এ পণ্যের মূল্যসূচক ২০২৩ সালের তুলনায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।
এফএওর দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক ডিসেম্বরে সাত মাস পর নিম্নমুখী হয়েছে। নভেম্বরের তুলনায় তা কমেছে দশমিক ৭ শতাংশ। তবে এটি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি ছিল। এছাড়া প্রধানত মাখনের দাম বাড়ায় গত বছর দুগ্ধজাত পণ্যের দাম ২০২৩ সালের তুলনায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি ছিল।
এফএও চিনির মূল্যসূচক ডিসেম্বরে এর আগের মাসের তুলনায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোয় আখ চাষ বৃদ্ধির পূর্বাভাস। গত মাসে পণ্যটির মূল্যসূচক ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ১০ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। ২০২৪ সালে এ সূচক আগের বছরের তুলনায় ১৩ দশমিক ২ শতাংশ কম ছিল।